বুধবার, ১৭ Jun ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
জগন্নাথপুর ইসলামী ব্যাংকে যান্ত্রিক  ত্রুটি সারিয়ে অবশেষে গ্রাহককে টাকা প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক জিলু কারামুক্ত; জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের ফুলেল শুভেচ্ছা শান্তিগঞ্জে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রীর এপিএস হাসনাত কা রা গা রে সুনামগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথপুরে আরএফএল শোরুম ‘মেসার্স শাহজালাল সেনেটারি’র উদ্বোধন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের  জগন্নাথপুর উপজেলা ও পৌর কমিটি অনুমোদন  সাংবাদিক আমিনুর রহমান জিলুর মুক্তির দাবিতে জগন্নাথপুরে প্রেসক্লাবের মানববন্ধন  পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে” – জগন্নাথপুরে কৃষি কংগ্রেসে বক্তারা রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পপতি

রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস আজ

রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস আজ

জগন্নাথপুর নিউজ ডেস্ক:: আজ ১লা সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নারকীয় তান্ডব চালিয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার প্রাচীনতম হাটবাজার রানীগঞ্জ বাজারে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা চালায়। এতে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হন। নরপশুরা মানুষ হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি। মানচিত্র থেকে রানীগঞ্জ বাজারটি নিশ্চিন্ন করতে পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় পুরো বাজার। পর পর দুইটি গণহত্যায় জগন্নাথপুরবাসী বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩১ আগষ্ট উপজেলার শ্রীরামসি গণহত্যার পরদিন ১ সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ বাজারে এ গণহত্যা সংঘটিত হয়। ইতিহাসের বর্বর এই নারকীয় তান্ডবে দেড় শতাধিক লোক মারা গেলেও হত্যাযজ্ঞের পর ৩৪ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়। অন্যদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। রানীগঞ্জ বাজারের এই ধ্বংসযজ্ঞের খবর তৎকালীন সময় বিবিসিতে প্রচারিত হয়। বর্বরোচিত এ হত্যাকান্ড এখনো কাঁদায় রানীগঞ্জবাসীকে।
ইতিহাস মতে, ৭১ এর পয়লা সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জের সকল ব্যবসায়ী বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতা, বড় বড় নৌকার মাঝিসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্থানীয় রাজাকার এহিয়া ও রাজ্জাককে দিয়ে খবর পাঠানো হয় বাজারের রাজ্জাক মিয়ার দোকানে আসতে। এসময় কেউ কেউ ভয়ে পালালেও নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং ঝামেলা এড়ানোর জন্য শতাধিক মানুষ তাদের কথামতো উপস্থিত হন। সকলে জড়ো হবার পর কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় শতাধিক মানুষকে। পরে এদের নিয়ে যাওয়া হয় পাশের কুশিয়ারা নদীর তীরে। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পেছন দিক থেকে গুলি করে রক্তে রঞ্জিত করে দেয়া হয় কুশিয়ারা নদীকে। প্রথম গুলিতে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় একাধিকবার লাইনে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হয়। নদীর স্রোতে ভেসে ভেসে যায় লাশ আর লাশ।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সরবরাহ করত। বিষয়টি স্থানীয় কিছু রাজাকাররা পাক হানাদারদের জানিয়ে দেয় এবং পরে কিছু রাজাকারদের সহায়তায় পাক হানাদাররা বাজারের নিরীহ ব্যবসায়ী, নৌকার মাঝি, ব্যাপারীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষদের গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ায় অনেকের লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি। হত্যাকান্ডে শতাধিক মানুষ শহীদ হলেও ৩৪ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অনেক চেষ্টা করেও অন্যদের পরিচয় বের করা যায়নি। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু খালেদ চৌধুরীর প্রচেষ্ঠায় ৩৪জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম ও ছয় জন আহতের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়।
২০১০ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় তৎকালিন উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তার প্রস্তাবে শ্রীরামসি ও রানীগঞ্জ গণহত্যার স্মৃতিসৌধে প্রশাসনিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই থেকে শ্রীরামসী ও রানীগঞ্জ গণহত্যার দিবসে প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এবারও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি পালন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2026 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com